Logo

সাদমানের সেঞ্চুরির পর ধস, ২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩
সাদমানের সেঞ্চুরির পর ধস, ২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পরও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতে ক্রিজে থাকা একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার লিটন দাস শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও তাঁর ব্যাটিং কৌশল নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

বিজ্ঞাপন

ইনিংসের শেষ দিকে বারবার ওভারের শুরুতে সিঙ্গেল নিয়ে সতীর্থদের স্ট্রাইকে পাঠাচ্ছিলেন লিটন। ফলে একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেইডেন সিলসের একটি লাফিয়ে ওঠা বল লিটনের কনুইয়ে আঘাত করেছিল। কয়েকবার ফিজিওর সহায়তাও নিতে হয় তাঁকে। শারীরিক অস্বস্তির কারণেই তিনি দ্রুত স্ট্রাইক বদলাতে চাইছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আগের দিন ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেদিন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ হওয়ায় মোট ৭৪ ওভার খেলা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দিনে দলীয় সংগ্রহে মাত্র ৮ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। এর মধ্যেই আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের দেখা পান। ২২০ বলে মাইলফলক স্পর্শ করা এই ওপেনার শেষ পর্যন্ত ২৩৪ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ১০৫ রান করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি সাদমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়া স্পিনার জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। মিডল ও অফ স্টাম্পের লাইনে থাকা বল প্যাডে আঘাত করলে রিভিউ নেন সাদমান। কিন্তু তাতে সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

এরপর ক্রিজে এসে বড় ইনিংস গড়তে পারেননি তাওহীদ হৃদয়ও। আগের দিন ক্র্যাম্পের কারণে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। দ্বিতীয় দিনে বিশপের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪২ রানেই থামে তাঁর ইনিংস।

এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজের জুটি থেকে আসে ৩২ রান। ১৫ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের আর্ম বলে বোল্ড হন মিরাজ।

বিজ্ঞাপন

নতুন বল হাতে পেয়ে ক্যারিবীয় পেসাররা গতি ও সুইং দিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে ফেলেন। শামার জোসেফের ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ২ কিলোমিটার গতির বলে ৫ রান করে স্লিপে ক্যাচ দেন নাঈম হাসান। এরপর হাসান মাহমুদও জোসেফের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬ রান করে।

শেষ দিকে লিটন বারবার সিঙ্গেল নিয়ে সতীর্থদের স্ট্রাইকে পাঠালেও কেউই ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি। তাইজুল ইসলাম ওয়ারিকানের বলে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে ক্যাচ দেন। এরপর শেষ ব্যাটার শরিফুল ইসলাম পরের বলেই এলবিডব্লিউ হলে ২৭২ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া শামার জোসেফ ও জশুয়া বিশপ দুটি করে উইকেট নেন।

বিজ্ঞাপন

সাদমানের ১০৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় প্রাপ্তি হলেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় তিনশ রানের মাইলফলকও ছোঁয়া হয়নি স্বাগতিকদের। বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে মাত্র ৫৯ রান যোগ করে ৭ উইকেট হারানো দলকে চাপে ফেলেছে। অন্যদিকে লিটনের অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসের পাশাপাশি তাঁর স্ট্রাইক বদলের সিদ্ধান্তও ম্যাচের আলোচনায় উঠে এসেছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD