তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ১১ হাজারের ক্লাবে মুমিনুল হক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের সামলে শুরু থেকেই দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন মুমিনুল হক। সকালে ক্যারিবীয় পেসারদের সুইংয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও মুমিনুলের ব্যাটিংয়ে তা অনেকটাই সামলে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। তবে ২৮ রানেই ছুঁয়েছেন দারুণ এক মাইলফলক—প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রান।
বিজ্ঞাপন
শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে ধীরে ধীরে হাত খুলেছেন মুমিনুল। তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শামার জোসেফের ঘণ্টায় ১৪৬-১৪৭ কিলোমিটার গতির বাউন্সার ও ভেতরে ঢোকা বল দারুণভাবে সামলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। জাইডেন সিলসের সুইংও সামলেছেন বেশ ভালোভাবে। শুরুর দিকে রান নেওয়ার চেয়ে উইকেট আগলে রাখাতেই মনোযোগ ছিল তাঁর।
রস্টন চেজ আক্রমণে আসার পর অবশ্য রান তোলার গতি বাড়ান মুমিনুল। দশম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে একটু খাটো বলে দারুণ কাট শটে পয়েন্টের পাশ দিয়ে মারেন প্রথম চার। পরের ওভারগুলোতেও স্পিনের বিপক্ষে কখনো সুইপ, কখনো ফাঁকা জায়গায় বল ঠেলে রান বের করেছেন। চেজের বলে সুইপে চার মারার পাশাপাশি একটি ওভারে দুটি দুই রানও নেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই ইনিংসের পথেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেন মুমিনুল। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই ক্লাবে যোগ দিলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল বর্তমানে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নাঈম ইসলাম ও খুলনা বিভাগীয় দলের বর্তমান প্রধান কোচ তুষার ইমরানের।
বিজ্ঞাপন
১৮২ ম্যাচে ৩২ সেঞ্চুরি ও ৬৩ ফিফটিতে ১১ হাজার ৯৭২ রান করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তুষার। নাঈম করেছেন ১৮৪ ম্যাচে ৩৪ সেঞ্চুরিতে ১১ হাজার ২৫০ রান। আর ১৬৯ ম্যাচে ২৯ সেঞ্চুরিতে মুমিনুলের রান ১১ হাজার ১৭।
ব্যাটিংয়ে নামার আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে মাত্র ১১ রান প্রয়োজন ছিল মুমিনুলের। ১৩তম ওভারে রস্টন চেজকে সুইপ করে ডাবল নেন তিনি। তাতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রান টপকে যান।
ইনিংসের মধ্যে পেসার জাস্টিন গ্রিভসের বিপক্ষে আবার ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন মুমিনুল। টানা দুই মেডেন ওভারে তাঁকে আটকে রাখলেও উইকেট দেননি। কখনো বল ছেড়েছেন, কখনো দারুণভাবে ডিফেন্স করেছেন।
বিজ্ঞাপন
২১ ওভার শেষে ৪৯ বলে ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল। পরের ওভারেই অবশ্য অহেতুক উইকেট ছুড়ে দেন তিনি। জোমেল ওয়ারিকানের মিডল ও অফ স্টাম্প বরাবর ভাসানো বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মুমিনুল। মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বলটি সরাসরি মিড অফে দাঁড়ানো শামার জোসেফের হাতে চলে যায়।








