২২ বছর পর ঢাকায় পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিল ভারত

দীর্ঘ ২২ বছর পর ঢাকার মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাল ভারত। ২০০৩ সালের হারের প্রতিশোধ এবার ৩-২ গোলের জয়ে নিয়েছে ভারতীয় যুবারা। তবে শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে ম্যাচে দারুণ উত্তেজনা ফিরিয়েছিল পাকিস্তান।
বিজ্ঞাপন
২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচেও ঢাকায় মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। সেবার ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে আবারও একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয় দুই দল। এবার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভারত। ১৩ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশে বল বাড়ানো হলে দারুণ দক্ষতায় আলতো ছোঁয়ায় সেটি জালে পাঠান তিনি। ছয় মিনিট পর পাকিস্তানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সুহাইল।
এরপর ৩০ মিনিটে ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ায় ভারত। ফলে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় দলটি।
বিজ্ঞাপন
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। ৩৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় দলটি। কিন্তু শায়ক দোস্তের নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলের সুযোগ নষ্ট করে বিরতিতে যেতে হয় পাকিস্তানকে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয়ার্ধেও ভারত নিজেদের এগিয়ে থাকা ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে গোলের ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের নাটকীয়তায় ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে দলটি।
রেফারির দেওয়া চার মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই পাকিস্তানের হয়ে গোল করেন নাজিব উল্লাহ। চলতি টুর্নামেন্টে এটিই পাকিস্তানের প্রথম গোল। এর দুই মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত ভলিতে দ্বিতীয় গোলটি করেন আলমগীর গাজী।
শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। অন্যদিকে প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ নিয়েই শেষ করতে হয় পাকিস্তানকে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হলেও ভারত ও পাকিস্তান কোনো আসরেই মুখোমুখি হয়নি। ২০০৩ সালের পর ২০২৬ সালে আবারও ঢাকায় সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই অনুষ্ঠিত হলো।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে করমর্দন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও ফুটবল মাঠে ছিল ভিন্ন চিত্র। ম্যাচ চলাকালে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেখা গেছে। কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন।








