Logo

৫৭ বছর বয়সেই ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সব সন্তানের নাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩
৫৭ বছর বয়সেই ৫৮ সন্তানের বাবা, মনে রাখতে পারেন না সব সন্তানের নাম
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের ৫৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ সাদেকের পরিবারে সদস্যসংখ্যা এত বেশি যে সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না তিনি। চার স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া ৭০টিরও বেশি সন্তানের মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছে ৫৮ জন। তার সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র তিন মাস। বিশাল এই পরিবারের খাবার ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্রতিদিনই আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি গ্লোবাল উইমেনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাদেকের পরিবারের কঠিন জীবনযাপনের চিত্র। অর্থের অভাবে কখনো খাবার না খেয়েই ঘুমাতে হয় শিশুদের। পরিবারের সব সদস্যের জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক শিশুকে খালি পায়ে চলাফেরা করতে হয়।

অভাবের মধ্যে কাটছে পরিবারের দিন

সাদেকের পরিবার বসবাস করে কাদামাটি দিয়ে তৈরি কয়েকটি ঘরে। এসব ঘরে পর্যাপ্ত দরজা-জানালা নেই। ভেতরের অংশ আড়াল করতে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হলেও তা ঠান্ডা কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পরিবারের সদস্যদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

সংসারে রান্নার জ্বালানি কাঠ কেনার টাকাও সব সময় জোগাড় হয় না। ফলে কখনো কাগজ পুড়িয়ে রান্নার আগুন জ্বালাতে হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সন্তানের খাবার ও দেখভালের দায়িত্ব সামলানোও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাড়ি বিক্রির কমিশনেই চলে সংসার

সাদেক একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে কমিশন হিসেবে পান এক হাজার আফগানি, যার মূল্য প্রায় ১৫ ডলার। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস এই কমিশন। ফলে আয় নির্ভর করে গাড়ি বিক্রির ওপর, আর সেই সীমিত অর্থ দিয়ে এত মানুষের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদেক জানান, সব সন্তানের নাম মনে রাখতে পারেন না বলে অনেক সময় তাদের ‘ছেলে’ কিংবা ‘বাচ্চা’ বলে ডাকেন। পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

শৈশবেই প্রাণ হারিয়েছে কয়েকটি সন্তান

সাদেকের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর প্রত্যেকেই খুব কম বয়সী ছিলেন। তাদের কয়েকটি সন্তান শৈশবেই মারা গেছে। শিশুদের মায়েদের অল্প বয়স এবং সন্তান লালন-পালনের অভিজ্ঞতার অভাবকে এসব মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখেন তিনি। তবে এটি সাদেকের নিজস্ব ব্যাখ্যা, স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানিয়েছেন, তার কয়েকটি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে যক্ষ্মা, হুপিং কাশি ও হামের মতো রোগে। এসব মৃত্যুর ঘটনা পরিবারটির স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে।

এত সন্তান নেওয়া নিয়ে এখন অনুশোচনা

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সাদেক। তার ভাষ্য, সন্তানদের খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যে এত কঠিন হয়ে উঠবে, তা আগে বুঝতে পারলে তিনি এত সন্তান নিতেন না। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও কেন সন্তান নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তানের মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি

সাদেকের পরিবারের দুরবস্থা শুধু একটি পরিবারের আর্থিক সংকট নয়, আফগানিস্তানের বৃহত্তর মানবিক পরিস্থিতিরও প্রতিফলন। বিবিসির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে তিনজনই নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।

এর পাশাপাশি বাল্যবিয়ে আফগানিস্তানের অন্যতম বড় সামাজিক উদ্বেগ। সাদেকের পরিবারের অভিজ্ঞতা দারিদ্র্য, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিপুলসংখ্যক নির্ভরশীল সদস্যের ভরণপোষণের মতো সমস্যাগুলোকে সামনে এনেছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য সূত্র : বিবিসি

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD