Logo

সাপের দ্বীপে কেন সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৩৬
সাপের দ্বীপে কেন সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ?
প্রতীকী ছবি

ব্রাজিলের উপকূল থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে রয়েছে ছোট্ট একটি দ্বীপ—ইলহা দা কুইমাদা গ্রান্দে। পৃথিবীর কাছে এটি ‘স্নেক আইল্যান্ড’ বা সাপের দ্বীপ নামেই বেশি পরিচিত। কারণ, দ্বীপটিতে রয়েছে বিপুলসংখ্যক বিষধর সাপ। এর মধ্যে এমন একটি প্রজাতিও আছে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

সাধারণ মানুষের জন্য দ্বীপটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বিশেষ অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞানী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যেতে পারেন। এর পেছনে মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিরল সাপের প্রজাতি ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সাপের আলাদা বিবর্তন

প্রায় ১১ হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে ইলহা দা কুইমাদা গ্রান্দে ব্রাজিলের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে দ্বীপের সাপগুলো আলাদাভাবে বিবর্তিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এই বিবর্তনের ফলেই সেখানে তৈরি হয়েছে গোল্ডেন ল্যান্সহেড নামের বিশেষ এক ধরনের পিট ভাইপার। প্রজাতিটি শুধু এই দ্বীপেই পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

বিষধর হলেও সবসময় আক্রমণাত্মক নয়

গোল্ডেন ল্যান্সহেড সাধারণত এক মিটারের কম লম্বা হয়। আকার তুলনামূলক ছোট হলেও এর বিষ দ্রুত কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে মানুষের ওপর এই সাপের কামড়ের নথিভুক্ত ঘটনা খুবই কম।

জীববিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গোল্ডেন ল্যান্সহেড স্বভাবগতভাবে মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। মানুষ কাছাকাছি গেলেও অনেক সময় সাপটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

বিজ্ঞাপন

পাখি শিকারেই বিষের বিশেষত্ব

দ্বীপে পরিযায়ী পাখিই গোল্ডেন ল্যান্সহেডের অন্যতম প্রধান খাদ্য। চিলিয়ান এলেইনিয়া ও ইয়েলো-লেগড থ্রাশের মতো পাখি এই সাপের শিকারের তালিকায় রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, দ্রুতগতিতে উড়ে চলা পাখিকে শিকার করার জন্য দ্রুত কাজ করে এমন বিষ সাপটির বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে দ্বীপে স্থায়ীভাবে থাকা সাউদার্ন হাউস রেন ও বানানাকুইটের মতো কিছু পাখি এই সাপের আক্রমণ এড়িয়ে চলতে সক্ষম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

দ্বীপে আসলে কত সাপ আছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায়ই বলা হয়, দ্বীপটির প্রতি বর্গমিটারে একটি করে সাপ রয়েছে। তবে গবেষণাভিত্তিক হিসাব এমন ধারণাকে সমর্থন করে না।

গবেষকদের অনুমান, দ্বীপটিতে গোল্ডেন ল্যান্সহেডের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার থেকে চার হাজারের মধ্যে হতে পারে। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৪৩ হেক্টর হওয়ায় প্রতিটি সাপের জন্য গড়ে ১০০ বর্গমিটারের বেশি জায়গা পড়ে। ফলে দ্বীপের প্রতিটি অংশেই অসংখ্য সাপের উপস্থিতি রয়েছে—এমন প্রচলিত ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

বিজ্ঞাপন

কেন সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ?

গোল্ডেন ল্যান্সহেডকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অবৈধভাবে ধরে পোষা প্রাণীর বাজারে বিক্রি করাও প্রজাতিটির জন্য হুমকি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে একটি গোল্ডেন ল্যান্সহেডের অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফলে দ্বীপে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য শুধু সাপের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করা নয়। একই সঙ্গে বিরল এই প্রজাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

গল্পের চেয়ে বাস্তবতা কিছুটা আলাদা

বিজ্ঞাপন

ইলহা দা কুইমাদা গ্রান্দেকে ঘিরে ভয়ংকর নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও গবেষণার তথ্য সেই ভাবমূর্তির পুরোটা সমর্থন করে না। গোল্ডেন ল্যান্সহেড বিষধর হলেও মানুষের প্রতি স্বভাবগতভাবে আক্রমণাত্মক নয় এবং এর বিষ মূলত পাখি শিকারের সঙ্গে অভিযোজিত।

তবে দ্বীপটি বিষধর সাপের আবাসস্থল এবং চিকিৎসা সহায়তা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় অনভিজ্ঞ মানুষের সেখানে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রেখেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD