নড়বড়ে হয়ে গেছে কলাপাড়ার ভাসমান সেই কাঠের সেতু

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেই কাঠের সেতুটি চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপর দিয়ে মানুষ হাটলে দোল খাচ্ছে। স্থিরভাবে থাকছে না। ভেঙ্গে গেছে অনেকাংশের কাঠের তক্তা। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিক ড্রামগুলো।
বিজ্ঞাপন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাসমান সেই কাঠের সেতুটি চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপর দিয়ে মানুষ হাটলে দোল খাচ্ছে। স্থিরভাবে থাকছে না। ভেঙ্গে গেছে অনেকাংশের কাঠের তক্তা। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিক ড্রামগুলো।
গ্রামবাসীদের অর্থায়নে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পাখিমারার খালের উপর নির্মিত সেতুটি একেবারেই নড়বড়ে হয়ে গেছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। তারপরও কৃষি পল্লী খ্যাত ওই ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কোনো উপায়ন্ত না পেয়ে ঝুকি নিয়ে এ ভাসমান সেতু পরাপার হচ্ছে। তবে এ খালের উপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, এ পয়েন্টে ১১৬ মিটার দীর্ঘ একটি আয়রণ ব্রিজ ২০১৭ সালে ৬ আগস্ট রাতে হঠাৎ করে ভেঙে পরে। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজির গ্রাম খ্যাত মজিদপুর, এলেমপুর, কুমিরমারাসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২০ সালের গ্রামবাসীর অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে ভাসমান এই কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। এসময় ৭২টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর পাটাতন করতে ২৫০ ঘনফুট (কেভি) কাঠ লেগেছে। আর প্লাস্টিকের রশি লাগে তিন মণ। তারকাটা লেগেছে তিন মণ এমটাই জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
বিজ্ঞাপন
কুমিরমারা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই এ সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করছে। প্রায় তিন বছর আগে স্বেচ্ছাশ্রমে এই ভাসমান সেতুটি গ্রামাবাসীরা নির্মান করেছে। এর মধ্যে একবার মোরমত হয়েছে। বর্তমানে সেতুটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়েই স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী আসা যাওয়া করে। এছাড়া শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীর স্বজনরা সবচেয়ে চরম ভোগান্তিতে পরেন।
একই গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, এখানে একটি আয়রন ব্রিজ খুবই জরুরী। বেশির ভাগ সবজিই কুমিরমারা গ্রামে চাষাবাদ হয়। এসব সবজি বেশির ভাগই কৃষকরা উপজেলা শহরের বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু সেতুর অভাবে এসব মালামাল পরিবহন করা ব্যয় বহুল ও কষ্টকর বলে এই কৃষক জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থী মাইসা বলেন, আমি পাখিমারা হাইস্কুলে পড়ি। প্রতিদিন এই সেতুটি দিয়ে যাওয়া আসা করি খুব ভয় করে কিন্তু কিছু করার নাই।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় নিজাম উদ্দিন বলেন, এখানে একটি আয়রণ ব্রিজ ছিলো। গত তিন বছর আগে এটি ভেঙ্গে যায়। লোহার এ্যাঙ্গেল, স্লাব এখন পানির নিচে। তবে আমার জানামতে উপজেলা পরিষদ থেকে নতুন করে ব্রিজ নির্মানের জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রনালয় পাঠিয়েছেন।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ সংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আসা করি খুব দ্রুত ব্রিজটি হবে।
বিজ্ঞাপন
আরএক্স/








