মৌলভীবাজারে ফুটপাতের শীতবস্ত্রই নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা

চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার জেলায় বইছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। ভোরের ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে পুরো জেলায়। তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
বিজ্ঞাপন
কয়েকদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায়শই শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হওয়ায় মৌলভীবাজারে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চা শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। মৃদু শৈতপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলা রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে জানান শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান।
বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
কনকনে ঠান্ডায় স্বস্তির খোঁজে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মার্কেট ও মোড়ে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন মানুষজন। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে ফুটপাতের বাজারই এখন শীতবস্ত্র কেনার একমাত্র ভরসা।
ফুটপাত ব্যবসায়ী করিম বলেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ আমাদের কাছেই আসেন। এখানে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই জ্যাকেট, সোয়েটার, মোজা, টুপি ও কম্বল পাওয়া যায়।”
বিজ্ঞাপন
ভ্যানচালক ও দিনমজুররা জানান, তীব্র শীতে ভোরে কাজে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এক শ্রমিক বলেন, “বাজারে নতুন গরম কাপড়ের দাম অনেক বেশি। বাধ্য হয়েই ফুটপাত থেকে কিনতে হচ্ছে। শীত তো থামবে না, গরম কাপড় দরকারই।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলায় গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ শীত মৌসুমে নিম্নবিত্ত ও চা শ্রমিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি, নাহলে শীত তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।








