Logo

টানা তিনদিন ধরে সীমান্তে গোলাগুলি, চরম আতঙ্কে সীমান্তবাসী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭:১৯
টানা তিনদিন ধরে সীমান্তে গোলাগুলি, চরম আতঙ্কে সীমান্তবাসী
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালেও নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। টানা তিন দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের বেশ কয়েকটি শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ এখন আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। ফলে জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি সেখানে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তারা আরও দাবি করেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক জেলে পরিবার নিরাপত্তার অভাবে নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছেন না। সীমান্তসংলগ্ন বসতিতে মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দিনভর এবং আবার শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত একাধিক ভারী বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে। বর্তমানে মাঝেমধ্যে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে চলমান গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ বিশেষ করে রাতের বেলায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এর আগেও মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এপারের বাসিন্দাদের গায়ে এসে লেগেছে। তাই যে কোনো সময় আবারও গুলি এসে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করছে। গোলাগুলির শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD