‘আমি আপনার আপু নই’ সম্বোধন নিয়ে ক্ষুব্ধ কালীগঞ্জ ইউএনও

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে তার ক্ষুব্ধ আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
একটি ফোনালাপে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, “আমি আপনার আপু নই, ফোর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন।” বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও কালীগঞ্জ উপজেলার রয়েল ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি চড়ুইভাতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে রাত প্রায় ১২টার দিকে অনুষ্ঠান চলমান থাকায় একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান।
বিজ্ঞাপন
ফোনালাপে অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে মেহেরবান মিঠু বলেন, “এক্ষুনি শেষ হয়ে যাবে আপু।” এই সম্বোধন শুনেই ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। জবাবে তিনি বলেন, “আমি আপনার আপু নই। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?” তখন মিঠু জানান, অনুমতি নেওয়ার সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন না।
ইউএনওর কড়া প্রতিক্রিয়ায় মেহেরবান মিঠু সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ সম্বোধন করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি প্রচলিত ও সম্মানসূচক সম্বোধন।
বিজ্ঞাপন
ইউএনওর এই আচরণকে কেউ কেউ অহেতুক রুক্ষতা ও ক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। এর প্রতিবাদে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা উপজেলার সব ধরনের খেলাধুলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন।
রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, “সম্পূর্ণ সম্মানের জায়গা থেকেই আমি ‘আপু’ বলেছিলাম। কাউকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সময় একটু বেশি হয়ে যাওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশও করেছি। কিন্তু বিষয়টি এভাবে নেওয়া হবে, তা বুঝতে পারিনি।” তিনি জানান, ঘটনার বিষয়টি সংগঠনের অন্যদেরও অবগত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রিবুল ভূইয়া বলেন, “রাত ১১টা পর্যন্ত সময় নেওয়া ছিল। আমাদের একজন খেলোয়াড় বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিতে কিছুটা সময় লেগে যায়। আমরা আশা করেছিলাম, ইউএনও উপস্থিত থেকে ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেবেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন আচরণ আমাদের হতাশ করেছে।”
তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান মুঠোফোনে বলেন, ‘আপু’ সম্বোধনের কারণে নয়, বরং গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলায় আমি বিরক্ত হয়েছি। আমি নিজেই ফোন করে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেছি।’








