শিক্ষিকার বাসা থেকে নিখোঁজ ছাত্রী ও তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক গৃহশিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাসা থেকেই তাদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা, তার স্বামীসহ চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন— অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ওরফে ফাতেমা (১৪) এবং তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। আটক ব্যক্তিরা হলেন গৃহশিক্ষিকা মীম বেগম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮), মীমের বড় বোন নুরজাহান বেগম (৩০) এবং এক কিশোরী (১৫)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় মীম বেগমের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে মীমের শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুমের ফলস ছাদ ভেঙে পাওয়া যায় শিক্ষার্থী ফাতেমার লাশ। দুটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা গৃহশিক্ষিকা মীম বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়তে ওই ফ্ল্যাটে যায়। সন্ধ্যার দিকে পড়া শেষ করে সে বাসা থেকে বের হয়েছে বলে জানানো হয়। একই সময় ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে মা ও মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরদিন ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজের ঘটনায় রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে মুক্তিরবাগ এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গন্ধ তীব্র হলে এলাকাবাসী এর উৎস খুঁজতে গিয়ে মীম বেগমের ফ্ল্যাটের সামনে সন্দেহজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করেন। দরজা খুলতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
নিহত রোকেয়ার ভাই জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নিখোঁজের শুরু থেকেই তারা গৃহশিক্ষিকা মীমকে সন্দেহ করেছিলেন এবং বিষয়টি পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তার দাবি, রোকেয়া ও ফাতেমার গলায় থাকা স্বর্ণালংকারের লোভেই তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীম বেগম ও তার বোন নুরজাহান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত জানতে আটক ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।








