নিখোঁজের ৭ দিন পর নদী থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

নওগাঁ সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র অভি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছিল সে। আর মাত্র কিছুদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা—তারপর উচ্চতর ডিগ্রি, স্বপ্নের কর্মজীবন, পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নের জীবন আর শুরু হলো না। সবকিছু যেন এক নিমিষেই থেমে গেল।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নওগাঁ শহরের কালিতলা মহাশ্মশান সংলগ্ন নদী থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। সাত দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধানে থাকা অভির পরিবারের কাছে সেই খবর পৌঁছাতেই মুহূর্তে ভেঙে পড়ে পরিবারটি। বুকভরা শঙ্কা আর অজানা আতঙ্ক নিয়ে তারা ছুটে আসে নদীর তীরে।
অসংখ্য কৌতূহলী মানুষের ভিড়ের মাঝে পানিতে ভেসে থাকা মরদেহটি দেখেই আঁতকে ওঠেন স্বজনরা। যে পোশাক পরে ১১ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়েছিল অভি—সেই পোশাকই যেন সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দেয়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই চেনা মুখ। নিশ্চিত হয়ে যায়—এটাই অভি।
বিজ্ঞাপন
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের বড় ছেলে অভি। ছোট মেয়ে এবার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই সন্তানকে ঘিরেই ছিল তার যত স্বপ্ন, যত আশা। কিন্তু আজ সেই স্বপ্নগুলো নদীর জলে ভেসে গেছে।
অভির বাবা রমেশ চন্দ্র জানান, গত ১১ জানুয়ারি রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ছেলে। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ করা হয়। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পড়াশোনায় ভালো ছাত্র অভির এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার, স্বজন কিংবা সহপাঠীরা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল ইসলাম জানান, নদী থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।








