৭ দিন ধরে গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

টানা এক সপ্তাহ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাজধানীর রায়েরবাগ ও শনিরআখড়া এলাকার বাসিন্দারা। গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌন ১টার দিকে রায়েরবাগ-শনিরআখড়া অংশে অবস্থান নিয়ে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত সাত দিন ধরে তাদের এলাকায় সম্পূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভকারীরা জানান, গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে, যা একদিকে ব্যয়বহুল, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণও। এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকট চললেও কোনো পূর্বঘোষণা বা সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
অবরোধের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, দূরপাল্লার বাসযাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।
ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সাজেদুর রহমান বলেন, রায়েরবাগ ও শনিরআখড়া এলাকায় সাত দিন ধরে গ্যাস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং দ্রুত আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।








