সিলেট বিভাগে ভূমিধস বিজয় হলেও একটি আক্ষেপ বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি জয়ের ধারা বজায় রাখলেও সিলেট-৫ আসনে দলটি হেরে গেছে। এখানে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শরিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেট-৫ আসনে বিএনপির হারের পিছনে একটি ‘ভুল’ মনোনয়ন সিদ্ধান্ত দায়ী। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ ও জনপ্রিয়তা যাচাই না করেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলটির সুবিধা হাতছাড়া হয়েছে।
এ আসনে বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ, যিনি এলাকায় ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করা এই নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে দল থেকে বহিষ্কার হন। নির্বাচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভোট পেয়েছিলেন এবং বিএনপির একাংশ নেতাকর্মীও প্রকাশ্য-গোপনে তার পক্ষে কাজ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ফলাফলে দেখা যায়, মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯,৩৫৫ ভোট, উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯,৭৭৪ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ পেয়েছেন ৫৭,২৫১ ভোট। জকিগঞ্জ উপজেলার ভোটে আবুল হাসান ৪৪,১৯৭, উবায়দুল্লাহ ফারুক ২০,৮৬২ এবং মামুনুর রশিদ ২৫,৩০৯ ভোট পান। কানাইঘাটে আবুল হাসান ৩২,০২৪, উবায়দুল্লাহ ফারুক ৪৮,৭ ভোট এবং মামুনুর রশিদ ৩১,১৬৮ ভোট পান।
বিএনপির জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে এ আসনটি তাদের হয়নি। তাই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ১৩ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও জোটের প্রার্থীর সুপারিশে নেয়া হয়েছিল, যাতে নির্বাচনে জোটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটের বড় অংশ যদি জোট প্রার্থীর পক্ষে যেত, তবে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। সিলেট-৫ আসনে এই হারের কারণে বিএনপির বিজয় সত্ত্বেও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে।








