৭৯ জন মিলে ২১২ জনকে ‘তীরের মতো সোজা’ রাখব: আমির হামজা

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা বলেছেন, সংসদে তাদের অবস্থান সংখ্যায় কম হলেও ভূমিকা হবে দৃঢ়। চরমোনাইয়ের একজন ও শেরপুরের একজনসহ মোট ৭৯ জন সংসদ সদস্য মিলে ২১২ জনকে ‘তীরের মতো সোজা’ রাখতে চেষ্টা করবো। কেউ বিচ্যুত হলে সংসদের ভেতরে বা বাইরে প্রয়োজন হলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরের ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আমির হামজা বলেন, ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দলীয় পরিচয় বড় নয়। তার মতে, চাঁদাবাজি যদি নিজের দলের কেউও করে, তাও তা অন্যায়ের শামিল। আমি শুধু যে ভোটে জিতেছি তাদের এমপি নই; আমার আসনের সব ভোটারের প্রতিনিধি।
আগামী পাঁচ বছর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। সংবিধান, সংসদের কার্যবিধি ও মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়ে বই ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ সমান, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে বাড়তি সুবিধা আনা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
তাফসির মাহফিল আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের দায়িত্ব ও কাজের চাপ অনেক বেশি। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন একজন এমপির কাজ কত বিস্তৃত।
সংসদে সময় ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এক মিনিট সংসদ অধিবেশন চলতে প্রায় ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা জনগণের অর্থ। তাই সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়ার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও উন্নয়নমূলক বিষয় নোট করে জনগণের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে চান। একই আসনের অন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নানা অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অনিয়ম দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কিছু এলাকায় মাইকিং করার পর প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় বন্ধ হয়েছে। তবে ভিন্ন পদ্ধতিতে অর্থ আদায়ের চেষ্টা থাকলে তা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তার ভাষায়, যেভাবেই নেওয়া হোক, ঘুষ ঘুষই—এটি বরদাশত করা হবে না।
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চান এবং উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রশ্নে আপস করবেন না।








