ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কার্যালয়টি সাময়িকভাবে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায়।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াস নেতৃত্বে চারজন ব্যক্তি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা কলাপসিবল গেটের পাশে একটি জানালা ভেঙে ফেলে এবং অন্য একটি জানালার কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে বাইরে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ পৌঁছে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুন নিভিয়ে ভাঙচুর বন্ধ করে। এসময় আল নূর মো. আয়াস স্থানীয়দের সমালোচনার মুখে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র জানায়, এই কার্যালয় বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার গুঞ্জন ওঠে এবং গোপনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীম এবং কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আল নূর মো. আয়াস বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের কোনো কার্যক্রম এই মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না। সেই সঙ্গে কার্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে টয়লেট হিসেবে উন্মুক্ত করা হলো।” তিনি আরও বলেন, “যতদিন না হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়, ততদিন খুনিদের কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হবে না।”
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








