যশোরে ডেল্টা এলপিজি প্লান্টে অবৈধ সিলিন্ডার রিফিলের অভিযোগ, অভিযানে ধোঁয়াশা

যশোরের শহরতলী কানাইতলা এলাকায় ডেল্টা এলপিজি লিমিটেড নামের একটি স্যাটেলাইট বটলিং প্লান্টে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব অনুমোদন না থাকলেও অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার রিফিল করে বাজারজাত করার এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, খুলনার নুর ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত রবিবার দিবাগত রাতে যশোর কোতয়ালী থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। তবে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই পুলিশ সদস্যদের ফিরে যাওয়া নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের খবর পেয়ে শ্রমিকরা পালিয়ে গেলেও পরে কয়েকজনকে ধরে আনা হয়। প্লান্ট কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো মূল কাগজপত্র দেখাতে পারেনি, শুধু ফটোকপি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযান চলাকালে একটি গ্যাসবাহী ট্রাক বাইরে অপেক্ষায় থাকলেও পুলিশের উপস্থিতির কারণে সেটি আনলোড করতে পারেনি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয় এবং পরে বিভিন্ন মহল থেকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযানের কিছুক্ষণ পর মালিকের ছেলে নাজমুল ইসলাম হৃদয় খুলনা থেকে এসে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন এবং এরপরই প্লান্টে পুনরায় কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য নুর ইসলাম ও তার ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযানের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।








