Logo

সংরক্ষিত নারী আসনে রেজিনা নাসেরের পক্ষে তৃণমূলের সমর্থন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
৩ মার্চ, ২০২৬, ১৩:০১
সংরক্ষিত নারী আসনে রেজিনা নাসেরের পক্ষে তৃণমূলের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনে রেজিনা নাসেরকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রেজিনা নাসের মাঠপর্যায়ে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তার উপস্থিতি ও সাহসী অবস্থান নেতাকর্মীদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

নেতাকর্মীরা আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এমন একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, যিনি দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী এবং দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের প্রত্যাশা, দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও তৃণমূল পর্যায়ে রেজিনা নাসেরকে ঘিরে জোরালো আলোচনা চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, রেজিনা নাসের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্রবধূ। তিনি মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমানের স্ত্রী। ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

এমবিএ ডিগ্রিধারী রেজিনা অত্যন্ত কোমল মনের মানুষ ও সদালাপি। যার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এখন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষের আশা ভরসার স্থল। সবার সুখে-দুখে পাশে দাঁড়ান। সেজন্য সকলের প্রিয়জন হয়ে উঠেছেন। ২০০৭ সালে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদর ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচন করেন এম সাইফুর রহমান। সেসময় বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হয় রেজিনার। এরপরই বিএনপির প্রার্থী শ্বশুরের পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েন। বাড়ি-বাড়ি ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে উঠান বৈঠকে যোগ দেন। নিয়মিত অংশ নেন নির্বাচনি সভা সমাবেশেও।

ছিলেন নির্বাচনি এলাকার কো অর্ডিনেটরের দায়িত্বেও। স্বামী নাসের রহমান কারাগারে থাকলেও ভোটের মাঠে তার অভাব বুঝতে দেননি রেজিনা।

২০১৮ সালে স্বামী নাসের রহমানের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করেন রেজিনা। এ নির্বাচনে তৃণমূলে নারী ভোটের জাগরণ হয় তার মাধ্যমে। তিনি ও তার কন্যা আমিরা রহমান রাতদিন সমানতালে উঠান বৈঠক, নির্বাচনি সভা-সমাবেশ করেন। বিশেষ করে চা বাগানে নারী শ্রমিকদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও নির্বাচনি সমাবেশ করেন। যার ফলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হন।

বিজ্ঞাপন

রেজিনা নাসেরের শিক্ষাগত যোগ্যতা— এমবিএ (১৯৮৭), ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমবিএ (২০১৮), পর্যটন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বি.কম (সম্মান), ফাইন্যান্স (১৯৮২), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ডিপ্লোমা (১৯৯৫), বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ এ ছাড়া তিনি সদস্য, উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ; সাবেক ইসি সদস্য, আইবিএ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন; সাবেক সহসভাপতি, ফাইন্যান্স অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন; সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা; এবং সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের। রেজিনা নাসের তার তিন সন্তানএক ছেলে ও দুই মেয়ে। তারও উচ্চশিক্ষিত।

সদর উপজেলার জগন্নাথ পুর গ্রামের উজ্জ্বল বলেন, ম্যাডাম রাজনীতি হিকি লাইছইন বাস্তব যেই টা। আমরার এবারকুর জাতীয় নির্বাচনো জান ধরি কাজ করছইন। বড় বড় মহিলা সমাবেশ করি মাঠ গরম করছইন। খালি ইবার নায় সাইফুর রহমান স্যারেরও নাসের রহমান স্যারের আরো দুইবার তিনি কাজ করছইন।

একাটুনা ইউনিয়নের আব্দুল করিম ইমানী বলেন, ‘ম্যাডামে যে পলিসিতে কথা জানাইন যে ভাষা ব্যবহার করইন মানুষের একেবারে জান গলি যায়।’

বিজ্ঞাপন

রেজিনা নাসের বলেন, তণমূলসহ সব স্তরের নেতৃবৃন্দ আমাকে পছন্দ করেন। সবাই মায়া করে সম্মানের চোখে দেখে বড় কিছু বিপদে আপদে মানুষ আমাকে এখনো ফোন করেন। এই যে মানুষের একটা ভরসার স্থল নেতাকর্মীদেরও ভরসাস্থল যারা আমার সাথে সহজেই মিশতে পারে। তাদের আমার সাথে যোগাযোগের অধিকারও আছে। সহজেই তারা যোগাযোগ করতে পারে। আমি কোনো সময়ই কারো ফোন ইগনোর করি না। আমার ফোন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। যখন দিন রাত ১টার সময় ফোন পাই। রিসিভ করি। সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করি।

রেজিনা নাসের বলেন, কোভিডের সময় খাদ্য ফুড প্যাকেট সহায়তা সহ হাজার হাজার কম্বল বিলিয়েছি। এবং যখনই যে সাহায্য চায় আমি সব সময়ই কাউকে ফিরিয়ে দেইনা। এতো ফোন আসে বাচ্চা ডেলিভারি,বাচ্চাদের স্কুলের ড্রেস কিনা স্কলারশিপ দেয়া বেতন দিতে পারছেনা যতদূর পারি আমার নিজের ক্যাপাসিটিতে সাহায্য করে যাচ্ছি। শুধু মৌলভীবাজারে না আমি ঢাকাতেও যেমন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ১০টা স্টুডেন্টকে পুরো স্পন্সর করি। আর ট্যুরিজমে ১০টা আর ফিন্যান্সে ২টা স্টুডেন্টকে সহায়তা করি। তাছাড়া এমনিতেই ব্যক্তিগতভাবে গরীব যারা তাদেরও তো করছি। যা পারি। সত্যি কথা বলতে কি এই টাকা আয় রোজগার করি ঠিকই পুরাটা আমাদের না ওদেরও হক আছে এটা। যাকাততো হিসেবে করে দেই কোনো সময় বেশি দেই।

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মো. আবদুল মুকিত বলেন, রেজিনা নাসের একজন উচ্চশিক্ষিত কর্মীবান্ধব নেত্রী। সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাকে দল যদি মনোনীত করে তাহলে ভালো হয়। তিনি আপাদামস্তক একজন কর্মীবান্ধব নেত্রী। বিগত সাইফুর রহমান স্যারের ইলেকশনসহ নাসের রহমান সাহেবের দুটি ইলেকশন বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে হিন্দু মুসলিম চা বাগানের নারী-পুরুষ সকলের কাছে প্রিয় ও আস্থাভাজন হয়ে উঠেন।

বিজ্ঞাপন

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD