আলমডাঙ্গায় তিন ইউপি চেয়ারম্যানকে ধাওয়া, একটিতে ভাঙচুরের ঘটনা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িকভাবে অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতে আবেদন করলে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পরিষদে গিয়ে কাজ শুরু করেন।
এ সময় স্থানীয় কিছু লোকজন পরিষদে গিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কিছু সময়ের জন্য চেয়ারম্যানকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরে চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে সেগুলো ভাঙচুর করা হয়।
চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী অফিস করছিলেন। এ সময় একদল লোক এসে তাকে ঘেরাও করে এবং লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে একই উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকেও স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুরের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে উপজেলার আরও কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ নিজ পরিষদে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন।








