Logo

৩২৫ বছরের প্রাচীন চাপালিশ গাছ পেল ‘স্মারক বৃক্ষ’ স্বীকৃতি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি
৬ মার্চ, ২০২৬, ২১:০৮
৩২৫ বছরের প্রাচীন চাপালিশ গাছ পেল ‘স্মারক বৃক্ষ’ স্বীকৃতি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রকৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাঙামাটি শহরের একটি প্রাচীন চাপালিশ গাছকে ‘স্মারক বৃক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে গাছটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থিত প্রায় ৩২৫ বছর বয়সী চাপালিশ গাছটি এই স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে আবেদন করে এই প্রাচীন গাছটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ‘স্মারক বৃক্ষ’ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে ‘চাপালিশ’ নামে পরিচিত এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus chama এবং এটি Moraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

গাছটির বয়স আনুমানিক ৩২৫ বছর। বুকসমান উচ্চতায় এর পরিধি প্রায় ২২ ফুট ২ ইঞ্চি এবং উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট বলে জানা গেছে। রাঙামাটি পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন বৃক্ষ হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অংশ হয়ে আছে।

পরবর্তীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৬(১) ধারার ক্ষমতাবলে গাছটিকে ‘স্মারক বৃক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি এই ঘোষণা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারি স্বীকৃতির ফলে গাছটি এখন জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতারাও এ উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী বলেন, এই গাছটি শুধু একটি বৃক্ষ নয়, বরং এই অঞ্চলের প্রকৃতি ও ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। সরকার এটিকে ‘স্মারক বৃক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করায় প্রকৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠান। তার উদ্যোগেই প্রাচীন এই গাছটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্মারক বৃক্ষ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে গাছটি শুধু সংরক্ষিতই হবে না, বরং রাঙামাটির প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ হিসেবেও নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD