বগুড়ার শেরপুরে জ্বালানি তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপের প্রভাব পড়েছে দেশের স্থানীয় বাজারেও। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। ফলে উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের হামছায়াপুর এলাকায় অবস্থিত স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। তেল নিতে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পাম্পের সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক চালককে।
উপজেলায় মোট ১০টি তেলের পাম্প রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি পাম্পের দৈনিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে সাত হাজার লিটার। আবার সপ্তাহে দুদিন সরবরাহও বন্ধ থাকে। ফলে সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে স্থায়ী যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেরপুরে তেলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ট্রাকচালকেরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। একটি ট্রাকে সাধারণত ১২০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেলের প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে চালকেরা পাচ্ছেন মাত্র ৭০ লিটার।
বিজ্ঞাপন
ট্রাকচালক মো. সাইদুল বলেন, শেরপুরে তেলের খুবই সংকট চলছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০ হাজার টাকার তেল প্রয়োজন, সেখানে পাচ্ছি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার তেল। আবার এই তেল নিতে এক থেকে দুই দিন সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে। সরকার বরাদ্দ বাড়ালে সমস্যা কিছুটা কমবে।
আরেক চালক ফরহাদ বলেন, আমাদের দরকার ফুল ট্যাংকি তেল। কিন্তু দুই দিন অপেক্ষা করার পরও মাত্র সাত হাজার টাকার তেল পাচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
জীবন হোসেনসহ আরও কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, উপজেলার বাইরের পাম্পগুলো অনেক সময় শেরপুরের গাড়িকে তেল দিতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে অধিক বার্তি দামে কিনতে হচ্ছে। তাদের ভাষায়, নিজ এলাকায় চাহিদার অর্ধেক তেল পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
হামছায়াপুরের স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের সিনিয়র ক্যাশিয়ার আবু জাফর বলেন, ডিপো থেকে চাহিদার প্রায় অর্ধেক তেল দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দিন একেবারেই সরবরাহ পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, স্থানীয় গাড়ির পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলোকে অল্প কিছু তেল দিচ্ছি। পেট্রোল ও অকটেন ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন সরবরাহ না এলে আর দুই দিন চলবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সংকট কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে রেশনিং পদ্ধতির আওতায় জ্বালানি তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২৫ শতাংশ কমিয়ে তেল সরবরাহ করা হতো, এখন তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে বলে বুধবার এক বার্তায় জানিয়েছে সংস্থাটি।








