ঈদকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলে চাঙা ‘চাঁদের গাড়ি’

রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য সময় কাটানোর পর ঈদকে সামনে রেখে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে জনপ্রিয় পর্যটন বাহন ‘চাঁদের গাড়ি’ ঘিরে এখন ব্যস্ততা ও আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, শ্রীমঙ্গলে ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণ এই খোলা জিপ আকৃতির ‘চাঁদের গাড়ি’। খোলা ছাদের এসব গাড়িতে করে পর্যটকরা সহজেই পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এলাকাজুড়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি ‘চাঁদের গাড়ি’ রয়েছে, যা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত প্যাকেজে পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকে। একটি ট্রিপের ভাড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে গাড়িগুলো নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ব্রেকিং সিস্টেম মেরামত থেকে শুরু করে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে অনেক গাড়িতে নতুন করে রং করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চাঁদের গাড়ির চালকরা জানান, রমজান মাসে কাজ প্রায় বন্ধ ছিল, ফলে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েন। তবে ঈদকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনের আশায় এখন তারা নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে ঢাকা থেকে আগত পর্যটকদের কাছে এই বাহনের চাহিদা বেশ বেশি।
আরেক চালক জানান, ইতোমধ্যে অনেক পর্যটক আগাম যোগাযোগ করছেন। ঈদের ছুটিতে নিয়মিত ট্রিপ পরিচালনা করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
চাঁদের গাড়ির মালিকরা বলছেন, বিদেশি পর্যটক কম আসার সম্ভাবনা থাকলেও দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভর করেই তারা ব্যবসা সচল রাখতে চান। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গাড়িগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন পর্যটক না থাকায় এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিপাকে ছিলেন। তবে ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ খাতে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চালকদের প্রশিক্ষণসহ সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতে আবারও গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








