Logo

ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে বাড়তি চাপ, তবু নেই বড় যানজট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ
১৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫১
ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে বাড়তি চাপ, তবু নেই বড় যানজট
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে সড়কে। যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে এখন পর্যন্ত বড় কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বস্তি নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কড্ডার মোড়, নলকার মোড় এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও কোথাও দীর্ঘ যানজটের চিত্র দেখা যায়নি।

নলকার মোড় এলাকায় কথা হয় ঢাকাফেরত ব্যবসায়ী সেলিম খানের সঙ্গে। তিনি জানান, এবারের যাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল। যানজটে পড়তে হয়নি বলেই মনে হয়নি ঈদের ভিড় চলছে।

একইভাবে সিরাজগঞ্জ শহরের বাসচালক শওকত আহমেদ বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে গাড়ির চাপ দ্রুত বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৬ মার্চ ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। সেদিন বিকেল থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে যমুনা সেতু ও সংযুক্ত মহাসড়কে। সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এদিন টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। আগের দিন রোববার (১৫ মার্চ) পারাপার হয়েছিল ২৫ হাজার ৪৪০টি যানবাহন। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ১০ হাজার ২১৮টি বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় কিছুটা চাপ থাকলেও দ্রুত টোল আদায় ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে যান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল যানবাহন দ্রুত সরাতে অতিরিক্ত রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নও। চার লেন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১৩টি আন্ডারপাস চালু হয়েছে, যা স্থানীয় যানবাহনের চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় কাজ চলমান থাকলেও সেখানে যান চলাচলে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই মহাসড়ক ও যমুনা সেতু। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতি ঈদেই এখানে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে এবার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও উন্নত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD