Logo

ঈদযাত্রা: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগে যাত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল
১৮ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫৯
ঈদযাত্রা: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগে যাত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখী মানুষ। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বিশেষ করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের ঢল নামছে, যার প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। এতে উত্তরাঞ্চলমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) ভোররাত থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোর ৪টার দিকে চন্দ্রা থেকে মৌচাক পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিকল্প সড়ক না থাকায় অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। অনেক প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করায় শ্রমিকরা আগেভাগেই গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপ পড়ছে সড়কে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ভোরেও চন্দ্রা এলাকায় যানজট পরিস্থিতি ছিল প্রকট। চন্দ্রা মোড় থেকে মৌচাক পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে গাড়ির সারি থাকলেও নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত অংশ তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। বিশেষ করে চন্দ্রা টার্মিনাল এলাকায় যানবাহনের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা, সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো—এসব কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

মহাসড়কের এই অংশটি উত্তরাঞ্চলে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় এখানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহনের চাপও বেশি। ফলে ধীরগতিতে এগোতে বাধ্য হচ্ছে যানবাহনগুলো। এতে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা।

এক পরিবহন চালক জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক স্বাভাবিক থাকলেও মৌচাকের পর থেকেই শুরু হয়েছে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খুব অল্প দূরত্ব অতিক্রম করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, এক পরিবহন শ্রমিকের অভিযোগ, চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় কিছু লোকাল যানবাহনের বিশৃঙ্খল অবস্থানই মূলত জটের কারণ।

রংপুরগামী এক যাত্রী জানান, রাত আড়াইটার দিকে যাত্রা শুরু করলেও চন্দ্রা এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে। এর আগে সড়ক ফাঁকা থাকলেও এই অংশে এসে যানজটের মুখে পড়েন তারা।

বিজ্ঞাপন

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম বলেন, দিনের তুলনায় রাতে যানবাহনের চাপ বেশি বেড়েছে। কিছু শিল্পকারখানা বিকেলে বন্ধ হওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় চন্দ্রা এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশসহ ট্রাফিক বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD