৪ স্তরের নিরাপত্তায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ, জামাত সকাল ১০টা

১৯৯তম ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ প্রস্তুত হয়ে গেছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি, মাঠে দায়িত্বে থাকবে পাঁচটি প্লাটুন বিজিবি।
বিজ্ঞাপন
ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ জামাতে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের টুপি, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। ছাতাও সঙ্গে আনা যাবে না।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঈদগাহের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, ঈদ জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ঘটনার পর থেকে প্রতিবছরই বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। এবারও চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠ ও আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট ও পিকেট। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মধ্যে চারটি পুলিশ এবং দুটি র্যাব ব্যবহার করবে।
বিজ্ঞাপন

মাঠজুড়ে সিসিটিভি নজরদারি, চারটি ড্রোন ক্যামেরা এবং ছয়টি ভিডিও ক্যামেরা মোতায়েন থাকবে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সুইপিং টিম ও কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে। ফায়ার সার্ভিস, ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিমও থাকছে।
র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নাঈমুল ইসলাম জানান, স্নাইপার, ড্রোন ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। র্যাব সদস্যরা পোশাক ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের হুমকি নেই।
বিজ্ঞাপন
ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ জানিয়েছেন, মাঠ প্রস্তুতকরণ, রং করা, অজু ও গোসলের সুবিধাসহ মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।








