Logo

ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, পথে আছে সৈয়দপুরের আরেকটি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১৮ মার্চ, ২০২৬, ১৯:২২
ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, পথে আছে সৈয়দপুরের আরেকটি
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী থেকে পাঠানো একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, পাশাপাশি সৈয়দপুর থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন রওনা দিয়ে পথে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে প্রথম উদ্ধারকারী ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার রেলস্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার ফলে উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় ব্যাপক ভোগান্তির।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ওই এলাকায় রেললাইনের সংস্কারকাজ চলছিল। এ কারণে ট্রেনগুলো সাধারণত ধীরগতিতে চলাচল করছিল। তবে বুধবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাগবাড়ী এলাকা অতিক্রমকালে দুর্ঘটনায় পড়ে। ট্রেনটির ইঞ্জিন নিরাপদে পার হলেও পেছনের বগিগুলো হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়।

মোট ১৪টি বগির মধ্যে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় বলে জানা গেছে। এ সময় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে লাফিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর রংপুরগামী সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রেললাইনের স্লিপার সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সতর্ক সংকেত থাকা সত্ত্বেও ট্রেনচালক দ্রুতগতিতে ট্রেন চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা জানান, ঘটনাস্থলের অদূরে লাল পতাকা দিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।

এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, রাতের মধ্যেই লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD