Logo

ঈদের আগের দিন কফিনে ভরে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী মোশাররফ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল
২০ মার্চ, ২০২৬, ২০:১৭
ঈদের আগের দিন কফিনে ভরে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী মোশাররফ
ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে পাড়ি দেওয়া টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন (৪০) আর জীবিত ফিরে আসতে পারলেন না। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার ১২ দিন পর তিনি কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছেন, আর তার আগমনেই গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের সদস্যরা। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুরের দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে যান মোশাররফ। আল-খারিজ শহরের পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে দিন-রাত পরিশ্রম করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।

বিজ্ঞাপন

গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান মোশাররফ। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম, যা এখনো থামেনি।

মোশাররফের বাবা সূর্যত আলী ও মা জহুরা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। মায়ের আহাজারিতে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। স্ত্রী কবরী আক্তার যেন এখনো মেনে নিতে পারছেন না এই নির্মম বাস্তবতা।

তিনি জানান, ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। মোশাররফ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ঈদের আগেই টাকা পাঠাবেন এবং সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করতে বলেছিলেন। সেই কথাগুলো এখন তার কাছে হয়ে উঠেছে অসহনীয় স্মৃতি।

বিজ্ঞাপন

মোশাররফের দুই সন্তান মাহিম (১৫) ও মিহান (৬) এখনো পুরো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি। ছোট ছেলে বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো চুপচাপ থাকে, আবার চারপাশের কান্না দেখে অবাক হয়ে যায়— যেন সে এখনো বিশ্বাস করে, তার বাবা ফিরে আসবেন।

তিন বছর আগে অল্প সময়ের জন্য দেশে এসেছিলেন মোশাররফ। এরপর আবার কর্মস্থলে ফিরে যান পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। কিন্তু সেই যাত্রার শেষ হলো না জীবনের আলোয়, বরং শেষ হলো এক করুণ ট্র্যাজেডিতে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় মরদেহ পৌঁছায় এবং সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে আনা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

ঈদের আনন্দের আগমুহূর্তে এমন শোকাবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে বিষণ্নতা। প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর এক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের এই গল্প যেন সবার হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD