Logo

গাইবান্ধায় ১০০ টাকার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
২১ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৫৮
গাইবান্ধায় ১০০ টাকার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা শহরে জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের তীব্র ঘাটতি শহরের যান চলাচলকে ব্যাহত করেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা, যাদের তেলের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সংকটের মধ্যেই শহরের সবচেয়ে বড় দুটি ফিলিং স্টেশন—এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ও রহমান ফিলিং স্টেশন—অচল হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পাম্পে সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পে দীর্ঘ লাইন, কোথাও উত্তেজনা, কোথাও পুলিশি পাহারায় তেল বিতরণ চলছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গ্রাহক ও পাম্প কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত তর্ক-বিতর্ক হয়। কিছু ক্ষেত্রে সংঘর্ষের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।

ফিলিং স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, শহরে এমন ভিড় আগে কখনও দেখা যায়নি। বাইরের এলাকা থেকেও হাজার হাজার মোটরসাইকেল এসে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কারও গাড়িতে আগেই ২–৫ লিটার তেল থাকলেও বারবার আতঙ্কে তেল নিচ্ছেন। কেউ কেউ সীমিত পরিমাণ তেল বাড়িতে মজুত করছেন, যা সংকট আরও বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ সরকার মিঠু মিয়া জানান, পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় গত তিন দিন ধরে পাম্প বন্ধ। কিছু ডিজেল থাকলেও সেটাও শুধু প্রশাসনের গাড়ির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিদিনের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হয় অল্প মাত্র।

রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, দিনভর ১০০ টাকার তেল দিয়েও চাহিদা মেটানো যায়নি। অকটেন আগেই শেষ, তাই পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।

শহরের অদূরে অবস্থিত হাসনা ও গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সীমিত তেল বিতরণ হলেও লাইনে থাকা মানুষের ভিড় ও উত্তেজনা কমেনি।

বিজ্ঞাপন

মেসার্স হাসনা অ্যান্ড সন্সের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টার দিকে তেল দেওয়া শুরু করতে হয়েছে। যতক্ষণ আছে, দিতে পারবো।

দাঁড়িয়াপুর রোডের ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার দুপুরে তেল না পেয়ে গ্রাহকের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই কর্মচারী আহত হন। পুলিশি সহায়তায় পরবর্তী সময়ে তেল বিতরণ করা হয়। পাম্প তত্ত্বাবধায়ক শাহেদ জানান, নিরাপত্তা না থাকলে তেল দেওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের তদারকিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। মোটরসাইকেলের জন্য ২০০ টাকা নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও সংকট বাড়ায় ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। শহরের সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

নূর আহমেদ বলেন, চার কিলোমিটার দূর থেকে এসেছি, দুই ঘণ্টার বেশি দাঁড়িয়ে আছি।

আরেক গ্রাহক রনি মিয়া বলেন, তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১০০ টাকার তেল পেলাম। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা শহরে প্রতিদিনের চাহিদা প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেল। তবে সরবরাহ হচ্ছে অর্ধেকেরও কম। পাম্প মালিকদের দাবি, সরকারিভাবে মজুত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি অগ্রিম টাকা দিলেও চাহিদামতো সরবরাহ হচ্ছে না।

এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শহরের সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD