Logo

কুমিল্লার বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
২২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৫
কুমিল্লার বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কমিটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২২ মার্চ) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ও জোনাল—এই দুই স্তরে আরও দুটি কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটিতে ছয়জন করে মোট ১২ জন সদস্য রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) আনিসুর রহমানকে। অন্য সদস্যরা হলেন—বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং আরএনবি কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ।

জোনাল কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগনাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিকেল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং আরএনবি (পূর্ব) প্রধান জহিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন। সংঘর্ষের পর বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এনে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। এ কাজে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব অংশ নেয়। সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD