কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেও ঈদের আনন্দে বন্দিরা

ঈদ মানেই আনন্দ ও উৎসব। সেই আনন্দের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেও। মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন বন্দিরা।
বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন সকালে কারাগারে বন্দি এবং অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতের পর বন্দিদের মাঝে ঈদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। সকালের নাস্তায় ছিল মুড়ি ও পায়েস। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাদের স্বজনরাও।
কারা কর্তৃপক্ষ প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর রেজালা। যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হিসেবে খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি রাখা হয়। রাতে পরিবেশিত হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন কারাগার পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক। তিনি বন্দি ও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাদ্য ও আবাসন পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ঈদ আনন্দের দিন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো বন্দিরাও যেন মানবিক পরিবেশে এই আনন্দ অনুভব করতে পারে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে তিনি কারাগারের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বন্দিদের কল্যাণে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিজ্ঞাপন
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের নামাজ, উন্নতমানের খাবারসহ সব ধরনের মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০টি লুঙ্গি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়।
কারাগারের জেলার জানান, কারাগার শুধু শাস্তির জায়গা নয়, এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এসব আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের দিন তারা একসঙ্গে নামাজ আদায় ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমে উৎসবের অংশীদার হয়েছেন।








