Logo

‘পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক না’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
৩০ মার্চ, ২০২৬, ২০:২৩
‘পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক না’
ছবি: সংগৃহীত

‘জিলাপি আজকে কত দামে বিক্রি করছেন, সরকারি রেটে? সাদাটা কত, লালটা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হতাম’—দোকানিকে এমন সরল প্রশ্ন করেই রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন কুড়িগ্রামের তরুণ কনটেন্ট নির্মাতা তাইজুল ইসলাম (৩০)। অনলাইনে তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে পরিচিত, আর দ্রুত বাড়ছে তার অনুসারীর সংখ্যা।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। অভাব-অনটনের কারণে কখনো বিদ্যালয়ের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। তবে প্রত্যন্ত গ্রামের এই তরুণ একটি ভিডিওর মাধ্যমে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন।

‘তাজু ভাই ২.০’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রি নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। সেখানে দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি না। তার সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অল্প সময়েই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে তিনি গ্রাম্য ভাষায় জিলাপির দাম জানতে চাইছেন। আশপাশে একাধিক দোকানে জিলাপি ভাজার দৃশ্য দেখিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় অনেক দোকান রয়েছে, অনেকেই জিলাপি ভাজছেন—তাই তিনি জানতে চান, আসলে কত দামে বিক্রি হচ্ছে। এরপর সরাসরি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বিক্রি করছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হতাম।”

বিজ্ঞাপন

ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই তাইজুল ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার ফলোয়ার প্রায় ৯০ হাজারে পৌঁছেছে, যেখানে ভাইরাল হওয়ার আগে তা ছিল মাত্র ছয় হাজারের মতো। জিলাপি বিক্রির ওই ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন।

ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার সরলতা ও আন্তরিক উপস্থাপনাকে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে হাস্যরসের দৃষ্টিতে দেখে তাকে নিয়ে ট্রল বা ব্যঙ্গ করছেন।

ব্যক্তিজীবনে তাইজুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। জীবিকার তাগিদে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন, আর কাজের ফাঁকে শখের বসে এমন ভিডিও তৈরি করেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তাইজুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক নই। আমাদের এলাকায় সাংবাদিকরা খুব একটা আসেন না, তাই নিজের মতো করে ভিডিও বানাই। আমি সাধারণ মানুষ, ভুল হতেই পারে। কেউ আমাকে ট্রল করলে কষ্ট পাই না। আমি শুধু চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”

এদিকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই তরুণ তার এলাকার বাসিন্দা হলেও ভিডিও করে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না।

গ্রামের সাধারণ এক তরুণের সহজ-সরল উপস্থাপনা কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মানুষের নজর কাড়তে পারে, তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তাইজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD