Logo

ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইডার–সাইড লেনে বাড়ছে প্রাণহানি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:১৪
ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইডার–সাইড লেনে বাড়ছে প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইডার ও সাইড লেনের কারণে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর অংশ এখন যেন ঝুঁকির পথে পরিণত হয়েছে। ঈদকে ঘিরে যাতায়াত বাড়ার পর একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

চার লেনে উন্নীত হওয়ায় মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শেরপুর অংশে নকশাগত ত্রুটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারেনি। প্রতিদিনের যানবাহনের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে যুক্ত হয়েছে দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং অচেনা পথে চালকদের অসতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গত বুধবার (১৭ মার্চ) শেরপুরে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হন। একই দিন ধুনট মোড় থেকে সীমাবাড়ী বগুড়া বাজার পর্যন্ত আরও তিনটি দুর্ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরদিন সেরুয়া বটতলা এলাকায় একটি বাস উল্টে একজন আহত হন। গাড়িদহ ইউনিয়নের বগুড়া পাড়া এলাকায় উল্টো দিক থেকে আসা ট্রলির সঙ্গে সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল আরোহীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া মির্জাপুর এলাকায় ইউটার্নে চারটি গাড়ির সংঘর্ষে এক চালক দুই পা হারান এবং তাঁর সহকারী গুরুতর আহত হন। ঈদের পর রাজাপুর এলাকাতেও সাইড লেন ডিভাইডারে ট্রাক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঘোগা ব্রিজ এলাকা, ভোগা ব্রিজসংলগ্ন বামুনিয়া, চান্দাইকোনা বগুড়া বাজারের ওভারপাস ডিভাইডার, বেতগাড়ি পেন্টাগন হোটেলের সামনে সাইড লেন, ধনকুন্ডি ফুড ভিলেজের সামনে ওভারপাসসংলগ্ন অংশ, ঘোগা বটতলায় সিপি কোম্পানির সামনে সাইড লেন, সুন্দর কোম্পানির সামনে অপরিকল্পিত লাইন, ছোনকা কলেজ রোডের ডিভাইডার এবং এসআর কেমিক্যালের সামনে এলোমেলো সাইড লেন।

দুর্ঘটনায় পড়া চালক জিহাদ বলেন, সড়কের মাঝখানে হঠাৎ সাইড লেন শুরু হলেও আগে থেকে কোনো সতর্ক সংকেত নেই। তাঁর দাবি, ভুল নকশার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং উদ্ধার কার্যক্রমও ধীরগতির।

তবে হাইওয়ে পুলিশের এক উপপরিদর্শক জানান, ওভারটেকিং ও লেন না মানার প্রবণতাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেখ রুহুল আজম বলেন, ডিভাইডার ও সাইড লেনের কিছু নকশাগত ত্রুটির বিষয়ে তাঁরা অবগত। সাসেক প্রকল্প-২ থেকে সড়কটি বুঝে পেলে পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ডিভাইডার ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। নকশায় ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে এবং চালকদের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে ও পরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ডিভাইডার দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যায় না, ফলে যানবাহন সরাসরি ধাক্কা খাচ্ছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে ডিভাইডার ও সাইড লেনের ত্রুটি দায়ী। বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও ডিভাইডারের মাঝের সরু পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। হাসপাতাল রোডের মুখেও একই চিত্র দেখা যায়।

শেরপুর উপজেলার বাইরের অংশে সাইড লেন থাকলেও শহরের ভেতরে তা নেই। ফলে অটোরিকশা ও রিকশা উল্টো পথে চলাচল করছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রবেশমুখ দখল করে স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদর ও ধুনট মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্নগুলোতেও নেই কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD