Logo

শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শেরপুর
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫
শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত
ছবি: সংগৃহীত

স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং নানা প্রতিশ্রুতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ফলে এই আসনকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ভোটগ্রহণের আগেই ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু হওয়ায় এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে পুনঃতফসিল ঘোষণা করে যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত সমর্থিত মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া, ফলে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।

তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবার ভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে নেমেছেন তিনি। তার স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রামাঞ্চলে উঠান বৈঠক ও সরাসরি ভোটার যোগাযোগে সক্রিয় রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে তাদের এ প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি প্রয়াত নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই। ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। অনেক ভোটারের মতে, এ আসনে সরাসরি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর-৩ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রভাব ছিল দৃঢ়। পরবর্তীতে মাহমুদুল হক রুবেল ১৯৯৪, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আসনটি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে থাকেনি।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন, যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারী ভোটারদের টার্গেট করে বিএনপি প্রার্থীর পরিবার সরাসরি মাঠে কাজ করছে।

নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, তিনি সবসময় জনগণের পাশে ছিলেন এবং এলাকার সমস্যা সম্পর্কে অবগত। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ভোটাররা পরিবর্তন চায় এবং দুর্নীতি ও দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির আশায় তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের দাবি, এলাকার বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের ইশতেহার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং তরুণদের মধ্যে তাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে এই আসনে জয় কারও জন্যই সহজ হবে না। সংগঠিত কর্মীসমর্থন ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের কারণে জামায়াত প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন, যা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে শেরপুর-৩ উপনির্বাচন এখন জাতীয় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD