Logo

শ্রীনগরে বৈশাখী মেলা-উৎসবকে ঘিরে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৫৯
শ্রীনগরে বৈশাখী মেলা-উৎসবকে ঘিরে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা
ছবি প্রতিনিধি।

শ্রীনগরে আসন্ন বৈশাখীর মেলা-উৎসবকে সামনে রেখে স্থানীয় কুমার কিংবা পাল বাড়িতে চলছে মাটি সামগ্রী তৈরির ব্যবস্তা। মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও খেলনা সামগ্রী তৈরি কাজে দিন পাড় করছেন মৃৎশিল্পীরা। নিপোন হাতের রং তুলির আচরে তৈরি হচ্ছে হাতি, ঘোড়া, গরু, খরগোস, টিয়া, কবুতর, মাটির ব্যাংক, পুতুল, হাড়ি-পাতিল, বাসন, খোরাসহ সাংসারিক কাজে ব্যবহারযোগ্য নানান ধরণের তৈজসপত্র। মাটির তৈরি এসব কৃত্রিম এতিহ্যবাহী খেলনা সামগ্রী শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের পাল বাড়িতে বৈশাখের মেলা ঘিরে হরেক রকমের মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ। হাতে তৈরি কাঁচা মাটির জিনিসপত্র রোদে শুকানোর পর বিশালাকার মাটির চুল্লিতে পুড়ানো হচ্ছে। কুমার পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুতে কাজ করছেন। তবে আগের মত মাটির জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে না বলছেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পী সমীর পাল বলেন, মাটির খেলানাসহ হাড়ি-পাতিল তৈরি করছেন। আসছে বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন উৎসবের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব মাটি সামগ্রী। বিভিন্ন মেলা-উৎসবে খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারদের কাছে মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করা হচ্ছে।

নানা কারণেই এ পেশায় টিকে থাকাটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। এবার মেলাকে সামনে রেখে মাত্র ৩ হাজার পিস মাটির খেলনা সামগ্রী প্রস্তুত করছেন বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সমু পাল ও শোভা রানী দম্পতি জানান, আধুনিক যুগে মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা অনেকাংশে কমে গেছে। কোনও পুত্র সন্তান নেই তাদের। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় পূর্ব-পুরুষদের পেশাটি এখনও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। ষোলঘরের শ্রী যতন পাল জানান, প্লাষ্টিক ও মেলামাইনের যুগে মাটির জিনিসপত্র বিলিন হতে যাচ্ছে। হাঁসাড়ার অরুণ পালসহ কয়েকজন জানান, পূর্ব-পুরুষদের সবাই এই পেশায় কাজ করে গেছেন। তারাও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও পূর্ব-পুরুষদের প্রায় ৪৩১ বছরের মৃৎশিল্পটি ধরে রাখছেন তারা। এখনও হাঁসাড়া পাল বাড়িতে প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা এ পেশায় থেকে দিনানিপাত করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাঁসাড়া, ষোলঘর, বাঘড়া, শ্রীনগর সদর এলাকার হরপাড়া, শ্রীনগর বাজার সংলগ্ন পালবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক কুমার পরিবার এখনও মৃৎশিল্পটি ধরে রেখেছেন। মাটির নানা ধরণের তৈজসপত্র বিক্রি করে তাদের সংসার চলছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD