ইউএনও ফুয়েল কার্ড যাচাই শুরু করতেই উধাও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন হঠাৎ করেই ফাঁকা হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুয়েল কার্ড যাচাই শুরু করতেই মুহূর্তের মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন উধাও হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আগে থেকেই ঘোষণা ছিল—ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে না। সেই নির্দেশনা কার্যকর করতে সকালেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
সেসময় পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্ড যাচাই কার্যক্রম শুরু হতেই অল্প সময়ের মধ্যেই সেই লাইন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যায়, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে পাম্পে তেল নিতে গেলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল পেতেন না। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্রবিহীন যানবাহন নিয়ম না মেনে আগে তেল নিয়ে চলে যেত। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তেন। তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
মাড়েয়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, আগে তেল নেওয়া যেন এক ধরনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রশাসনের নজরদারির কারণে অপেক্ষাকৃত সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কলেজ শিক্ষক আহসান হাবিব ও বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম। তারা বলেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে লাইনে বিশৃঙ্খলা কমেছে এবং ন্যায্যভাবে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নিয়মিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে তদারকি চালানো হচ্ছে। মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র—যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট ছাড়া কোনোভাবেই তেল দেওয়া হবে না। মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এই কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল সরবরাহ করা হবে না।
এছাড়া প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্যান্য পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খোলা বাজারে জ্বালানি তেলের অবৈধ বেচাকেনাও বন্ধ থাকবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে তেল মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।








