Logo

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা লবণচাষি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:০৪
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা লবণচাষি
ছবি: সংগৃহীত

কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কক্সবাজারে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ। ৭ ও ৮ এপ্রিল রাতজুড়ে বয়ে যাওয়া দুর্যোগে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গিয়ে প্রান্তিক চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া-এর বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃষ্টির পানিতে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা কাই নষ্ট হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মাঠগুলো পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে, যা মৌসুমের শেষ দিকে চাষিদের জন্য বড় ধাক্কা।

বিজ্ঞাপন

মগনামা শতঘোনা এলাকার লবণচাষি লিয়াকত আলী বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।”

উজানটিয়া করিয়ারদ্বিয়া এলাকার চাষি মনজুর আলম বলেন, “বাজারে লবণের দাম এমনিতেই কম। তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি—এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।”

একই হতাশা ব্যক্ত করেছেন বড় মহেশখালীর আনচার উল্লাহ ও কুতুবজোমের গিয়াসউদ্দিন। তাদের মতে, মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এমন ক্ষতি সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে বাড়তি খরচও যুক্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত।

শুধু মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যেখানে অনুকূল আবহাওয়ায় গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন হয়—যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

বিজ্ঞাপন

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষিদের টিকে থাকতে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD