Logo

বিনা টিকিটে ভ্রমণ : ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:২১
বিনা টিকিটে ভ্রমণ : ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন মফিজুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াতের দায় অবশেষে স্বীকার করে রেলওয়ের পাওনা পরিশোধ করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (৬০)। বুধবার (৮ এপ্রিল) শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বহুদিনের অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে জীবিকার তাগিদে ব্যবসা শুরু করেন মফিজুল ইসলাম। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় শ্রীপুর থেকে ঢাকায় কাঁঠাল পরিবহনের জন্য তিনি নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করতেন। তবে টিকিট কাটা ছাড়াই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের হাতে সামান্য অর্থ দিয়ে যাতায়াত করতেন তিনি। এভাবে প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে তার যাতায়াত চলতে থাকে।

সময়ের ব্যবধানে জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে হঠাৎই তার মনে জাগে দায়বোধ। উপলব্ধি করেন, অতীতে যে অর্থ তিনি দিয়েছিলেন তা রেলওয়ের কোষাগারে জমা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেলওয়ে তার প্রকৃত পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই উপলব্ধি থেকেই বহুদিন ধরে সেই অর্থ পরিশোধের উপায় খুঁজছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মফিজুল ইসলাম জানান, কত টাকা পরিশোধ করা উচিত তা নিয়ে তিনি দ্বিধায় ছিলেন। পরে নিজেই হিসাব করে ধারণা করেন, ২০ হাজার টাকার কম হবে না। সেই অনুযায়ী তিনি রেলওয়ের কাছে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন।

এ উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এককালীন ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। এক সপ্তাহ পর পুনরায় স্টেশনে গিয়ে তিনি বিশেষ মানি রিসিটের মাধ্যমে ১ এপ্রিল ওই অর্থ জমা দেন। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল তা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুরোনো দায় পরিশোধের আইনি সুযোগ রেলওয়েতে রয়েছে। মফিজুল ইসলামের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। জীবনের এক পর্যায়ে নিজের ভুল উপলব্ধি করে সংশোধনের যে চেষ্টা তিনি করেছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

বর্তমানে মফিজুল ইসলাম নিজ এলাকায় একটি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে পীড়া দিচ্ছিল। অবশেষে পাওনা পরিশোধ করতে পেরে তিনি এখন স্বস্তি অনুভব করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD