পরিবার হারানো শিশুর পাশে দাঁড়ালেন এমপি মাসুদ সাঈদী

গোপালগঞ্জের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা, বাবা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া ১১ বছর বয়সী শিশু সিয়ামের পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৩১ মে) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে নিহত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে গত ২৮ মে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় একটি বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন ও ছেলে আরমানসহ পাঁচজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় সোহাগের বড় ছেলে সিয়াম।
বিজ্ঞাপন
হঠাৎ করেই মা, বাবা ও ভাইকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে শিশুটি। বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে এমপি মাসুদ সাঈদী তার পড়ালেখা, ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “এত অল্প বয়সে একটি শিশুর পুরো পরিবার হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমাজের সবাইকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় তিনি আরও জানান, নিহত তিনজনের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান সিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও উদ্বেগ কাটেনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








