মির্জাপুরে নারী শ্রমিককে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নয়নী রাজবংশী (৬৪) নামে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগে রবিউল মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর লৌহজং নদীর তীরের ঝোপ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৪ জুলাই) টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মির্জাপুর আমলী আদালতে হাজির করা হলে রবিউল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত নয়নী রাজবংশী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একই গ্রামের কাদের মিয়ার বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ও নয়নী একই সঙ্গে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। এ বিষয়টি নিয়ে রবিউলের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঈদুল আজহার আগে রবিউলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর নয়নীর প্রতি তার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২১ জুলাই রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রবিউল নয়নীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ ধর্ষণ করে লৌহজং নদীর তীরবর্তী একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে নয়নী নিখোঁজ হওয়ার পর তার মেয়ে টুম্পা রাজবংশী মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং নদীর তীরের ঝোপ থেকে নয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।








