ফটিকছড়িতে গৃহবধূ মামনি হত্যা: দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে আলোচিত গৃহবধূ মামনি বালা দে (২৫) হত্যা মামলায় তয়ন দে ও সানি দাশ নামে দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে বিচারক আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে ফটিকছড়ির ভূজপুর থানার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের মহানগর এলাকার ভুবন মহাজন বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতে একদল দুর্বৃত্ত প্রবাসী রূপন কান্তি দের বসতঘরে দেয়াল টপকে ও ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে একা থাকা গৃহবধূ মামনি বালা দেকে ছুরিকাঘাতের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মামনি বালার চিৎকার শুনে তার শ্বশুর মিলন কান্তি দে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার ওপরও হামলা চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় নিহতের শাশুড়ি এক বছর বয়সী নাতনিকে নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিবেশী সানি দাশসহ কয়েকজনকে দেখতে পান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সানি দাশ ও তয়ন দেকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার আদালতের আদেশের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্বামী প্রবাসী রূপন কান্তি দে বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদালত দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করায় তারা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন। এখন মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।








