Logo

মিথ্যা পর্নোগ্রাফি মামলা করায় ফেঁসে গেলেন কেবিন ক্রু শিমু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩১
মিথ্যা পর্নোগ্রাফি মামলা করায় ফেঁসে গেলেন কেবিন ক্রু শিমু
ছবি: সংগৃহীত

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, শিমু বাদী হয়ে একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছিলেন। অভিযোগের তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে থাকা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

একই প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, এর আগে ওমর ফারুক শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে পৃথক মামলা করেছিলেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, সেই মামলার দায় এড়ানোর উদ্দেশ্যেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ এনে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৩ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

এর আগে গত ৯ জুলাই আদালত পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। একই আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেওয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আদালত নিজ উদ্যোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে ডিজিটাল তথ্য, রেকর্ড, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন লিংক পরীক্ষা করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। তদন্তে আরও উঠে আসে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু শিমু এবং একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সে কর্মরত ওমর ফারুকের মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্পর্কের সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণের অভিযোগে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, ওই মামলার পরিণতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ওমর ফারুক চৌধুরী ঢাকার আদালতে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হয়। জন্মদিন উপলক্ষে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিভিন্ন খাতে মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা গ্রহণের পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD