Logo

১২৮ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৫৯
১২৮ বার পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও এখনো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২২ জুলাই) নির্ধারিত দিনেও তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। এর ফলে আলোচিত এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ১২৮তম বারের মতো পিছিয়ে গেল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আগামী ২৭ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ১২৮তম বারের মতো পিছিয়ে গেল।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। ওই ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর রহমান খান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা মামলাটির তদন্ত শুরু করে। চার দিন পর তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ সময় র‌্যাব তদন্ত করলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এরপর গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে। বর্তমানে ওই টাস্কফোর্সই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের পরও তদন্ত শেষ না হওয়ায় বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD