বিয়ে না দেওয়ায় ছেলের হাতে বাবা-মা খুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের হামলায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে পারিবারিকভাবে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে রোমি রাজ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রোমি রাজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশগুপ্তও হামলার শিকার হন। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত স্বপন দাশগুপ্তকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন বলেন, স্বপন দাশগুপ্তকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছিল, কিন্তু পথে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য অতীতে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহত দম্পতির ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সব দিক খতিয়ে দেখছে।








