Logo

বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর, দুর্ঘটনা নাকি ইচ্ছাকৃত?

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট
১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৩৮
বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর, দুর্ঘটনা নাকি ইচ্ছাকৃত?
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুর পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি। ভিডিওটি ঘিরে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর অভিযোগ তুললেও, স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

মাজার এলাকায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, দিঘির কুমিরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে কুমিরের বিচরণ উপভোগ করেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

দর্শনার্থী আলিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে মনে হয়েছে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাটি আসলে কী, তা পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। মাজারের পরিবেশ ও পবিত্রতা রক্ষায় সঠিক তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনাস্থলের পাশের এক দোকানি বিনা আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট কুকুরটি আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিল এবং কয়েকজনকে আক্রমণ করে, এমনকি একটি শিশুকেও কামড় দেয়। পরবর্তীতে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে দিঘির কুমির সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ করেই। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর তার পায়ে আঁচড় দিলে আত্মরক্ষার্থে পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায় এবং তখনই কুমির সেটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। পরে কিছু সময় পর কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, কুকুরের আঁচড়ে আহত হওয়ায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক এবং এটি ভুলভাবে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটিতে আরও রয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা গুজব ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের অধিকাংশই এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD