Logo

স্কুলের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ছাত্রী উদ্ধার, ‘ধর্ষণ’ সন্দেহে গ্রেপ্তার পিয়ন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:১২
স্কুলের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ছাত্রী উদ্ধার, ‘ধর্ষণ’ সন্দেহে গ্রেপ্তার পিয়ন
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এবং এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের এক পিয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ভিকটিম ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযুক্ত হিসেবে বিদ্যালয়ের পিয়নকে আটক করা হয়। বর্তমানে নির্যাতিত ছাত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মন্নান জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ‘ভ্যাজাইনাল সোয়াব’ সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, কোনো ধরনের যৌন নির্যাতন ঘটেছে কি না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, এখনো এটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্ষণ বলা যাচ্ছে না; বরং প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল আসতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী এবং ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দুপুর ১টা ৭ মিনিটে ছাত্রীটিকে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ঢুকতে এবং এক মিনিট পর ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা যায়। এরপর আর তাকে ক্যামেরায় শনাক্ত করা যায়নি। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি নির্জন স্থানে তাকে পাওয়া যায়। ওই তলায় সাধারণত কোনো ক্লাস হয় না এবং সেটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে একটি ছোট ছাদসংলগ্ন স্থানে মেয়েটিকে পাওয়া যায়, যেখানে কোনো তালা ছিল না। মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনার পর মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই এটি এখন সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে তদন্তের পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় সামাজিকভাবে সমাধানের সুযোগ নেই; আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে, যখন ছাত্রীটি বিদ্যালয়ে একটি বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও তাকে না পেয়ে রাত ৮টার দিকে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেন।

পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পিয়নের কাছে কক্ষের চাবি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্কুলে কেউ নেই বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিদ্যালয়ের কক্ষ খোলা হলে তৃতীয় তলায় অচেতন অবস্থায় ছাত্রীটিকে পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

ভিকটিমের স্বজনরা জানান, উদ্ধার করার সময় মেয়েটি কথা বলতে পারছিল না এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিল। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD