প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশ

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে টাঙ্গাইল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ, সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
বিজ্ঞাপন
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পর্যায়ে এটি তারেক রহমানের দ্বিতীয় সফর। তাকে স্বাগত জানাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষিমেলা প্রাঙ্গণ, সন্তোষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জা ও অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া তার যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ।
নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তারা প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। এই কার্ডের আওতায় কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল থেকেই দেশব্যাপী প্রায় ২৭ হাজার কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে।
তিনি আরও জানান, তিন ধাপে সারাদেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ ১১টি এলাকায় প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং শেষে পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পহেলা বৈশাখে এ কর্মসূচির উদ্বোধনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি একদিকে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিন, অন্যদিকে দেশের কৃষকদের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর টাঙ্গাইলবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। ঐতিহাসিকভাবে কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ এবং সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব কমাতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাবও তুলে ধরা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সাড়ে ১০টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সফর টাঙ্গাইলের উন্নয়ন এবং কৃষি খাতের অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।








