পর্যাপ্ত সরবরাহেও জীবননগরে তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, মজুদের আশঙ্কা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে একযোগে উপজেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ও একটি ডিলারের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন মোট ৩১ হাজার লিটার ডিজেল এবং ১৬ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে জীবননগর ফিলিং স্টেশন (পৌরসভা), অংগন ফিলিং স্টেশন (সন্তোষপুর), উৎসব ফিলিং স্টেশন (লক্ষীপুর), নাসিম ফিলিং স্টেশন (দত্তনগর রোড) এবং মেসার্স লিমা ফিলিং স্টেশন (হাসাদাহ)—এই পাঁচটি পাম্পে তেল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মেসার্স এম.পি.এল ট্রেডার্স (হাসাদাহ) নামের একটি ডিলারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল বিক্রি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। এতে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, আগে যেখানে ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল নেওয়া হতো, বর্তমানে অনেকেই ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন। ফলে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের ভাষায়, “আগে কখনো এমন ভিড় দেখা যায়নি। ভবিষ্যতের আশঙ্কায় এখন সবাই বেশি করে তেল নিচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে কৃষকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তেলের সংকটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাস্তব সংকটের তুলনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুদের প্রবণতাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গুজব ও আতঙ্কের কারণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।








