হাসিনার মরদেহ উদ্ধার, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন

ট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজ থাকার আট দিন পর এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ খাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার শিকলবাহা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের দাবি, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হতে পারে। পরে স্রোতের টানে সেটি কৈয়গ্রাম এলাকায় ভেসে আসে।
নিহত নারীর নাম হাসিনা আক্তার (৩২)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়ার রত্নাপালং এলাকার মফিজুর রহমানের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী মোহাম্মদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত রয়েছেন। সন্তানরা চকরিয়ার একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম শহরে যান হাসিনা আক্তার। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বহু খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
নিহতের চাচাত ভাই মোহাম্মদ রফিক বলেন, খালে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে আমরা তাকে শনাক্ত করি। এটি অত্যন্ত রহস্যজনক ঘটনা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খালে লাশ ভাসতে দেখে প্রথমে তারা ভয় পেয়ে যান। পরে নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে বুধবার দুপুরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








