শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগ থেকে এবার ৩৪ দিনে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ১৯টি দেশের বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মাজারের তিনটি দানের ডেগ ও তিনটি দানবাক্স সিলগালা অবস্থায় খোলা হয়। দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
দানবাক্সে স্বর্ণ-রৌপ্যও
গণনা শেষে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে দুই ভরি এক রতি স্বর্ণ এবং ১৫ ভরি দুই আনা রৌপ্য। দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি।
বিজ্ঞাপন
কোন দেশের কত মুদ্রা
গণনা করা বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে— ব্রিটিশ পাউন্ড: ৩১ পাউন্ড ১১ পেনি, ভারতীয় রুপি: ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি: ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল: ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার: ৪ ডলার, নেপালি রুপি: ১০০ রুপি, ওমানি মুদ্রা: ১ রিয়াল ও ১ হাজার বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম: ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার: ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা: ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং: ১ হাজার ডং, জাপানি ইয়েন: ১ হাজার ইয়েন, কাতারি রিয়াল: ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড: ১০ পাউন্ড, মিসরীয় পাউন্ড: ১০ পাউন্ড, ইউরো: ৪০ সেন্ট, বাহরাইনি মুদ্রা: ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার: ১ ডলার।
এর মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি—৩ হাজার ২৪৮ রুপি।
বিজ্ঞাপন
নজরানা হিসেবে পাওয়া পশুর হিসাব আলাদা
মাজারে নজরানা হিসেবে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগিও দেওয়া হয়। এসব পশুপাখির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দানের অর্থ গণনায় স্বচ্ছতার উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন
শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়ে চলতি বছরের জুনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
গত ১২ জুন মাজার দুটি পরিদর্শনের পর তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। পরে তার নির্দেশে ১৮ জুন পুরোনো তিনটি দানের ডেগে সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর সরকার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয়।
বিজ্ঞাপন
তবে প্রত্যাহারের আদেশের পরও ২২ জুন তার নেতৃত্বে মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম প্রকাশ্য দান গণনার ঘটনা।
১৩ সদস্যের কমিটি হলেও সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে
মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কমিটি গঠনের প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, নতুন দানবাক্স ও ডেগে নিয়মিত অর্থ জমা পড়ার পাশাপাশি প্রকাশ্য গণনার মাধ্যমে এবারও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেল। ফলে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।








