মমেকহা লেবার ওয়ার্ডে সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ, ভোগান্তির অভিযোগ

গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা) লেবার ওয়ার্ড। তবে এই ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বিজ্ঞাপন
তাদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে রোগীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার অগ্রগতি কিংবা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কিংবা স্বজনদের ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যেতে বলার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
শফিকুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক-নার্সদের কাছে গিয়ে রোগীর বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
আরেকাধিক স্বজনের অভিযোগ, লেবার ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করে বিশেষ করে সিজারিয়ান করানোর পর অনেকের মধ্যেই ভবিষ্যতে সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে অনীহা তৈরি হয়। তাদের ভাষায়, একবারের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে হাসপাতালটির সেবা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লেবার ওয়ার্ডের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে দাবি করা এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, গাইনি বিভাগের কিছু চিকিৎসকের মধ্যে রোগীর সেবার চেয়ে কর্মঘণ্টা শেষে ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার তাড়না বেশি দেখা যায়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাইনি চিকিৎসকও গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, লেবার ওয়ার্ডে গর্ভবতী মায়েদের অনেক কষ্ট করতে হয় এবং চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কারও কারও গাফিলতিও রয়েছে। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ওই চিকিৎসক আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত চেম্বারে নেওয়ার প্রবণতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে যদি শুধু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলতে থাকে, তাহলে লেবার ওয়ার্ডের বিদ্যমান ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হবে কবে। গর্ভবতী মা ও নবজাতকের চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিভাগে সেবার মান, আচরণ, তথ্যপ্রাপ্তি ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ ওঠাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, লেবার ওয়ার্ডে কোনো নার্সের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়া হবে না। রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
লেবার ওয়ার্ডের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. তানজিনা লতিফ যুথীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। হাসপাতালের সার্বিক বিষয় জানতে সহকারী পরিচালক (এডি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
বিভাগীয় প্রধানের এ বক্তব্যের পর রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের জবাবদিহি এবং প্রতিকারের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষ নেবে—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে মমেকহা লেবার ওয়ার্ডে নিরাপদ, মানবিক, রোগীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।








