কালীগঞ্জে ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় কামরুন আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুন আক্তার ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম। এ জন্য বৃহস্পতিবার তিনি ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রাখেন। শুক্রবার গভীর রাতে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার সময় বিষয়টি টের পান কামরুন আক্তার। একপর্যায়ে তিনি, তাঁর স্বামী ও মেয়ে ডাকাতদের বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে স্থানীয়রা আহত কামরুন আক্তারকে উদ্ধার করে ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন জানান, রাত সোয়া ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা ও বুকের নিচে গভীর জখম ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে গুরুতর আহত মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








